অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ, কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিব্য ২০২৬ বিশ^কাপ এখন শুরুর দ্বারপ্রান্তে। এখন প্রাক-টুর্নামেন্ট নানা প্রশ্ন নিয়ে সমর্থকদের মনে প্রশ্নের পাল্লাটা প্রতিনিয়ত ভারী হচ্ছে।
২০২২ কাতার বিশ^কাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা শিরোপা জয় করেছিল। আর সেই শিরোপা পাশাপাশি মেসির গায়েও লেগে গিয়েছিল সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তকমা। মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগীজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ^কাপ খেলতে মাঠে নামছে। তার হাতে এখনও শোভা পায়নি বিশ^কাপের ঝকঝকে ট্রফিটি।
তারকা সমৃদ্ধ অন্য দলগুলোকে নিয়েও আগ্রহ কম নয়। সেরা দলটির হাতেই উঠবে ১৯ জুলাই ফাইনালের বিজয়ী শিরোপা। স্পেনের ওয়ান্ডারবয় লামি ইয়ামাল কি পারবেন ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের পাশে দেশকে বিশ^কাপের শিরোপাও উপহার দিকে? দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স চার বছর আগে রানার্স-আপ হওয়ার হতাশা কাটিয়ে আবারও কি ফাইনালে খেলতে পারবে? হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডের জন্যই বা কি অপেক্ষা করছে? ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ব্রাজিল কি পারবে ২৪ বছরের খরা কাটাতে? ফেবারিটের তালিকা থেকে জার্মানীও কি পারবে এবার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে? এবারের আসওে অভিষিক্ত চার দল কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান, উজবেকিস্তানই বা নিজেদেও প্রমান করতে পারবেন কিনা?
তিনটি সহ-আয়োজক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু আশা করা হচ্ছে।
গ্রুপ-এ : মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র
মেক্সিকো ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে। জয় দিয়ে তাদের নকআউট পর্বের পথে যাত্রা শুরু করার লক্ষ্য রাখবে। তাদের আশা থাকবে অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর, যা অর্জন করতে পারলে তারা নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করবে। এর আগে বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে দুইবার অংশ নিয়ে মেক্সিকো কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
তবে উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের সামনে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোচ হুগো ব্রুসের অধীনে দলটির স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে এবার প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন তাদের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
গ্রুপ থেকে অন্তত তৃতীয় স্থান অর্জন করে পরবর্তী পর্বে ওঠাই অভিজ্ঞ ও পরিণত চেক প্রজাতন্ত্রের দলের ন্যূনতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। গ্রুপ ‘এ’-এর দলগুলোর শক্তির ভারসাম্য বিবেচনায় নিলে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায়না।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ান ক্ষেত্রে সবসয়়ই প্রত্যাশা থাকে যে তারা গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাবে। তবে ইতিহাস বলে কাজটি সব সময় সহজ হয়নি। চার বছর আগে শেষ ষোলোতে ওঠার সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করাও একটি ভালো অর্জন হবে, কিন্তু সন হেয়াং-মিন ও তার সতীর্থরা অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছেন।
সূচী :
১১ জুন : মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র
১৮ জুন : চেক প্রজাতন্ত্র বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া
২৪ জুন : চেক প্রজাতন্ত্র বনাম মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম দক্ষিণ কোরিয়া
গ্রুপ-বি : কানাডা, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কাতার-সুইজারল্যান্ড
কাগজে-কলমে গ্রুপ ‘বি’-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। তারা যদি গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে শেষ ষোলো পর্যন্ত কোনো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল পরাশক্তির মুখোমুখি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। পরিকল্পনাটি সফল করতে পারলে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক পথ হতে পারে।
তবে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। কোচ জেসি মার্শেল অধীনে সহ-আয়োজক কানাডা এখনো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালিস্টদের কাছ থেকে অন্তত নকআউট পর্বে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্লে-অফে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে তাদের অবহেলা করার সুযোগ নেই। কানাডার চোট-সমস্যা যদি তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে, তাহলে বসনিয়া গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানও ছিনিয়ে নিতে পারে।
গ্রুপ ‘বি’-এর আরেক দল হলো কাতার। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করে স্বাগতিক দেশ হিসেবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ‘দ্য ম্যারুনস’ এবার এমন একটি গ্রুপে সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে যেখানে কোনো প্রকৃত বিশ্ব ফুটবল পরাশক্তি নেই। তাই তারা এক-দুটি অঘটন ঘটানোর আশা করতেই পারে।
সূচী :
১২ জুন : কানাডা বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা
১৩ জুন : কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড
১৮ জুন : সুইজারল্যান্ড বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কানাডা বনাম কাতার
২৪ জুন : সুইজারল্যান্ড বনাম কানাডা, বনসিয়া-হার্জেগোভিনা বনাম কাতার
গ্রুপ-সি : ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড
ব্রাজিলের লক্ষ্য সবসময়ই বিশ্বকাপ জয় করা। তাদের সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর ২৪ বছর কেটে গেছে, যা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন একমাত্র দেশের জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ ও হতাশাজনক অপেক্ষা। যদিও বর্তমান দলে অতীতের মতো অসংখ্য ব্যক্তিগত তারকার ছড়াছড়ি নেই, তবুও ‘সেলেসাও’ সবসময়ই এমন একটি দল গড়ে তোলে, যারা যেকোনো বাঁধা অতিক্রম করার সামর্থ্য রাখে।
ঐতিহাসিক ২০২২ বিশ্বকাপ অভিযান এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে অবস্থানের পর মরক্কোর প্রত্যাশা থাকবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে অন্তত কোয়র্টার-ফাইনালে পৌঁছানো। আগের প্রধান কোচ ওয়ালিদ রেগ্রারুইয়ের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার পর, এবার আরও আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ফুটবল দেখার আশা থাকবে।
স্কটল্যান্ড ও হাইতি শুধু অংশগ্রহণের জন্য গ্রুপ ‘সি’-তে আসেনি, তবে নকআউট পর্বে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। কোচ স্টিভ ক্লার্কেওর এবারের দলটি অনেকটাই ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করা স্কটল্যান্ড দলের মতোই। তাই শেষ ৩২-এ ওঠাই তাদের সর্বোচ্চ অর্জন হতে পারে।
অন্যদিকে হাইতি অন্তত গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে চায়। আর হয়তো প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করে তারা নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রায় প্রাথমিক আশার সঞ্চারও করতে পারে।
সূচী :
১৩ জুন : ব্রাজিল বনাম মরক্কো, হাইতি বনাম স্কটল্যান্ড
১৯ জুন : স্কটল্যান্ড বনাম মরক্কো, ব্রাজিল বনাম হাইতি
২৪ জুন : স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল, মরক্কো বনাম হাইতি
গ্রুপ-ডি : যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, তুরষ্ক
ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং অনুযায়ী গ্রুপ ‘ডি’ বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ গ্রুপ। তাই সহজেই কল্পনা করা যায় যে চারটি দলের যেকোনো একটি গ্রুপের শীর্ষে উঠতে পারে, আবার শেষ স্থানেও ছিটকে যেতে পারে। কোচ মরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থাকবে স্বাগতিক দেশের বাড়তি চাপ এবং তাদের কাছ থেকে নকআউট পর্বে উল্লেখযোগ্য কিছু করার প্রত্যাশা থাকবে। বাস্তববাদী কোনও সমর্থকই হয়তো ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার আশা করবেন না। তবে দলটি যদি পুরোপুরি ফিট থাকে এবং নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে নকআউট পর্বে এক, দুই, এমনকি তিনটি ম্যাচও জিততে সক্ষম হতে পারে। তবে কাগজে-কলমে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল সম্ভবত তুরষ্ক। তারা যদি গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারে, তাহলে শেষ ৩২-এ তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়েকেও কোনোভাবেই দুর্বল দল হিসেবে দেখা যাবে না। ‘সকারুজ’ নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া ২০২২ সালে সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে নকআউট পর্বে পৌঁছেছিল এবং এবারও সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তির আশা রাখে।
অন্যদিকে ‘লস গুয়ারানিয়েস’ নামে পরিচিত প্যারাগুয়ে টুর্নামেন্টে ফুটবলের জন্য আদর্শভাবে গড়ে ওঠা একটি দল বলে মনে হয়। কোচ গুস্তাভো আলফারোর শিষ্যরা বিশ্বকাপে যেকোনো দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে এবং শেষ ষোলোতে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ গুণাবলিও তাদের রয়েছে।
সূচী :
১২ জুন : যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে
১৩ জুন : অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরষ্ক
১৯ জুন : যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়া, তুরষ্ক বনাম প্যারাগুয়ে
২৫ জুন : তুরষ্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে বনাম অস্ট্রেলিয়া
বিশ^কাপে গ্রুপ ভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে এখানে জানানো হলো :
গ্রুপ-ই : জার্মানী, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর
টানা দুটি হতাশাজনক বিশ্বকাপের পর কোচ জুলিয়ান নাগলেসম্যানের জার্মানী দলের জন্য কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানো প্রায় বাধ্যতামূলক লক্ষ্য। এর চেয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সেটি হবে বাড়তি সাফল্য। তবে গ্রুপ ‘ই’-তে ‘ডি মানশাফট’-এর জন্য পথ মোটেও সহজ হবে না।
উইলিয়ান পাচো, পিয়েরো হিনকেপি ও মোয়েসেস কেইসেডোকে নিয়ে ইকুয়েডরের এমন একটি রক্ষণভাগ রযয়ছে, যার সঙ্গে খুব কম জাতীয় দলই পাল্লা দিতে পারে। এই শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ভিত্তির ওপর ভর করে ইকুয়েডর নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এবং এমনকি কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির করতে পারে।
এরপর আছে আইভরি কোস্ট, যাদের দলে আক্রমণভাগে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে আফ্রিকান নেশন্স কাপে তারা অনেকদুর পর্যন্ত যাওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে। কোচ এমার্স ফায়ের জন্য নকআউট পর্বে উঠতে না পারা বিশাল ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ তার হাতে আরও এগিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে।
গ্রুপের তুলনামূলক দুর্বল দল কুরাসাও কেবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকবে না। অভিজ্ঞ কোচ ডিক এ্যাডভোকাটের নেতৃত্বে তারা প্রতিপক্ষদের কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইবে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোল করে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্নও দেখছে।
সূচী :
১৪ জুন : জার্মানী বনাম কুরাসাও, আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর
২০ জুন : জার্মানী বনাম আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর বনাম কুরাসাও
২৫ জুন : ইকুয়েডর বনাম জার্মান, কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট
গ্রুপ-এফ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, তিউনিশিয়া
আরেকটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতাতাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ গ্রুপে তিনটি দলই যথার্থভাবেই দাবি করতে পারে যে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানো তাদের সামর্থের মধ্যেই রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের ফুটবল ফেডারেশন আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ঘোষণা করেছে যে তাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালে পৌঁছানো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোচ রোনাল্ড কোম্যানও একই লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এশিয়ার অন্যতম শক্তিধর দল জাপানও বেশ আত্মবিশ্বাসী। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়, এবং তারা মনে করে না যে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে যে দলটি কখনও শেষ ষোলো পেরোতে পারেনি, তাদের জন্য বাস্তবতা হবে অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানো। বিশেষ করে বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ফরম্যাটে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট কাটিয়ে উঠতে পারলে ‘সামুরাই ব্লুদের জন্য সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
অন্যদিকে সুইডেন আক্রমণভাগে আলেক্সান্দার ইসাক ও ভিক্টও গায়োকেরেসের মতো তারকাদের ওপর নির্ভর করতে পারবে। তারা যদি রক্ষণভাগকে শক্তভাবে সংগঠিত রাখতে পারে তাহলে কয়েকটি দলকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।
তিউনিশিয়া সাধারণত সুসংগঠিত এমন একটি দল যাদের হারানো কঠিন। তবে সাম্প্রতিক আফ্রিকান নেশন্স কাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তাদের জন্য গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়াটাই উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূচী :
১৪ জুন : নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান, সুইডেন বনাম তিউনিশিয়া
২০ জুন : নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন, তিউনিশিয়া বনাম জাপান
২৫ জুন : জাপান বনাম সুইডেন, তিউনিশিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস
গ্রুপ-জি : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড
বেলজিয়ামকে এখন আর আগের মতো বড় টুর্নামেন্টের শীর্ষ ফেবারিটদের মধ্যে ধরা হয় না। তবে অভিজ্ঞ তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কুর্তোয়া, রোমেলু লুকাকুর উপস্থিতি, সঙ্গে উদীয়মান উইঙ্গার জেরেমি ডকুর প্রতিভা মিলিযয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে না পারা তাদের জন্য ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য হবে।
বেলজিয়াম তাদের অভিযান শুররু করবে মিশরের বিপক্ষে। মোহাম্মদ সালাহ দলে থাকলেও মিশরকে তুলনামূলক সীমাবদ্ধ দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা থাকায় তারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারে।
ইরানও তাদের আগের ছয়টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের কোনোটিতেই গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে পারেনি, যদিও সর্বশেষ দুটি আসরে তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কাগজে-কলমে নকআউট পর্বে ওঠাই তাদের ন্যূনতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে তাদের অনুশীলন ঘাঁটি শেষ মুহূর্তে স্থানান্তর হওয়ায় অতিরিক্ত একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তারা।
বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮-এ বাড়ানো এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের জন্য সরাসরি একটি পূর্ণ কোয়ালিফিকেশন স্থান বরাদ্দ হওয়ায় নিউজিল্যান্ড এখন নিয়মিত বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠার পথে। ২০২৬ সালে তারা নকআউট পর্বে ওঠার জন্য লড়াই করতে চাইবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা যায়।
সূচি :
১৫ জুন : বেলজিয়াম বনাম মিশর, নিউজিল্যান্ড বনাম ইরান
২১ জুন : বেলজিয়াম বনাম ইরান, নিউজিল্যান্ড বনাম মিশর
২৬ জুন : মিশর বনাম ইরান, নিউজিল্যান্ড বনাম বেলজিয়াম
গ্রুপ-এইচ : স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে
স্পেনের এর কাছ থেকে বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যাশা করাই যায়। তবে দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রড্রি কি তার সেরা ছন্দে ফিরতে পারবেন? লামিন ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামস কবে পুরোপুরি খেলতে পারবেন? যদি এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হয় তাহলে স্পেনই হবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল।
মার্সেলো বিয়েসলার অধীনে উরুগুয়ের যাত্রা কিছুটা উত্থান-পতনে ভরা ছিল। তবুও তিনি এমন একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন, যাদের উচ্চাকাঙ্খা অনেক বড়। যদিও তিনি এডিনসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের ওপর নির্ভর করতে পারবেন না, কারণ দুজনই চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে নেই; তারপরও উরুগুয়ে দলে যথেষ্ট মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে, যা তাদের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখায়।
সৌদি আরব জানে কীভাবে বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলতে হয়। ২০২২ সালে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তারা সেটি প্রমাণ করেছিল। তবে এরপর থেকে ‘গ্রিন ফ্যালকনস’ খুব বেশি উন্নতি করতে পারেনি। বিশ^কাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগেই তারা কোচও পরিবর্তন করেছে। তাই বড় কোনো অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা কম বলেই মনে হয়। তবুও শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জয় পেলে তারা গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দেকে এই কঠিন গ্রুপে স্পষ্টতই আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত সৃষ্টি করার বড় সুযোগ হযয়ে উঠতে পারে।
সূচী :
১৫ জুন : স্পেন বনাম কেপা ভার্দে, সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে
২১ জুন : স্পেন বনাম সৌদি আরব, উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্দে
২৬ জুন : কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব, উরুগুয়ে বনাম স্পেন
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ভিত্তিক দলগুলো পর্যালোচনা এখানে তুলে ধরা হলো :
গ্রুপ-আই : ফ্রান্স, সেনেগাল, ইরাক, নরওয়ে
গতবার কাতারে রানার্স-আপ ফ্রান্স চার বছর আগের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। তবে শেষবার যখন তারা বিশ^কাপে নিজেদের অভিযান শুরু করেছিল সেনেগালের বিপক্ষে, তখন তারা ছিল শিরোপাধারী চ্যাম্পিয়ন। আর ২০০২ সালের সেই উদ্বোধনী ম্যাচে লেস ব্লুসরা হতাশাজনক পরাজয় বরণ করেছিল। ভারসাম্যপূর্ণ দল এবং আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী সাম্প্রতিক রেকর্ড নিয়ে সেনেগালের “লায়ন্স অব তেরাঙ্গা”-দের জন্য চার বছর আগে শেষ ষোলোতে ওঠার সাফল্য পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।
গ্রুপের আরেক দল ইরাক চার দশক পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে। কঠিন একটি গ্রুপে পড়লেও ইরাকের প্রধান কোচ গ্র্যাহাম আর্নল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তবে বাস্তবতা হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপ তাদের জন্য আগামী বছরের এএফসি এশিয়ান কাপ এবং ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্যগুলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি ভিত্তি তৈরির মঞ্চ।
ফ্রান্স ও সেনেগাল গ্রুপ পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও, দলে যদি আর্লিং হালান্ডের মতো একজন খেলোয়াড় থাকেন, তাহলে নরওয়ের জন্য সবকিছুই সম্ভব। অন্তত তৃতীয় স্থান নিয়ে হলেও তাদের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারলে তারা এমন একটি দল হবে, যার মুখোমুখি কেউই হতে চাইবে না।
সূচী :
১৬ জুন : ফ্রান্স বনাম সেনেগাল, ইরাক বনাম নরওয়ে
২২ জুন : ফ্রান্স বনাম ইরাক, নরওয়ে বনাম সেনেগাল
২৬ জুন : নরওয়ে বনাম ফ্রান্স, সেনেগাল বনাম ইরাক
গ্রুপ-জে : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শিরোপা ধরে রাখাই আর্জেন্টিনার প্রধান লক্ষ্য। কাজটি নিঃসন্দেহে কঠিন হবে, তবে তা তাদের নাগালের মধ্যেই আছে বলে মনে হচ্ছে। আর্জেন্টিনার দলে রয়েছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, কৌশলগত সমন্বয় এবং সর্বোপরি ইতিহাস গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা। লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের প্রথম প্রতিপক্ষ হবে আলজেরিয়া। আলজেরিয়ার দলে উদ্দীপনার কোনো অভাব থাকবে না, আর তাদের শক্ত রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের গুণমান “লে ফেনেকস”-দের ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছে দিতে পারে।
অস্ট্রিয়া একটি ভালো দল, কিন্তু যদি তারা গ্রুপে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য শেষ ৩২’র পর্বে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়া প্রায় অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হচ্ছে।
জর্ডানের জন্য এটি বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণ। আর যে কঠিন ড্র তারা পেয়েছে, তাতে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়ার মতো বড় কোনো অঘটন ঘটানো তাদের পক্ষে কঠিন বলেই মনে হয়। তবে তারা যদি অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার বিপক্ষে অন্তত একটি ইতিবাচক ফল অর্জন করতে পারে, সেটাই হবে তাদের সামর্থ্যে একটি বড় অর্জন।
সূচী :
১৬ জুন : আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান
২২ জুন : আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া, জর্ডান বনাম আলজেরিয়া
২৭ জুন : আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া, জর্ডান বনাম আর্জেন্টিনা
গ্রুপ-কে : পর্তুগাল, ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া
পর্তুগাল দলে তারকা খেলোয়াড়ের কোনো অভাব নেই, প্রায় প্রতিটি পজিশনেই রয়েছে উচ্চমানের ফুটবলার। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো চার বছর আগে কাতারে একাদশে নিজের স্থান হারানোর তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে সেরা ছন্দে ফিরতে মুখিয়ে আছে। আর সেটা হলে পর্তুগাল ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে।
অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোকে তাদের ৫২ বছরের মধ্যে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে থামানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তবে তারা শুধু অংশগ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকবে না, তাদের দলে অন্তত শেষ ৩২’এ ওঠার মতো সামর্থ্য রয়েছে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া উজবেকিস্তান কঠিন একটি গ্রুপে পড়েছে। বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হবে কোনো একটি ম্যাচে অঘটন ঘটিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে পৌঁছানো। সেই অভিযান শুরু হবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। কলম্বিয়ার প্রধান ভরসা লুইস দিয়াজ, আর দলের প্রতীকী নেতা হামেদ রদ্রিগেজ। তাদের লক্ষ্য হবে নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য- ২০১৪ বিশ^কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অর্জন সমান করা বা সেটিকে ছাড়িয়ে যাওয়া।
সূচী :
১৭ জুন : পর্তুগাল বনাম কঙ্গো, উজবেকিস্তান বনাম কলম্বিয়া
২৩ জুন : পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া বনাম কঙ্গো
২৭ জুন : কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল, কঙ্গো বনাম উজবেকিস্তান
গ্রুপ-এল : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা
ইংল্যান্ডের হাতে যে পরিমাণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে এবং তারা টানা সর্বশেষ দুটি ইউরোপিয়ন চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছেছে, তাতে নকআউট পর্বে অনেক দূর যেতে না পারলে সেটিকে বড় ধরনের হতাশা হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার জন্য এবার হয়তো খুব বেশীদুর যাওয়া কঠিন হতে পারে, কারণ তাদের সোনালী প্রজন্মের অনেক খেলোয়াড় বয়সের কারণে ছন্দ হারিয়েছেন বা অবসর নিয়েছেন। তবুও তারা নকআউট পর্বে ওঠার প্রত্যাশা অবশ্যই করবে।
ঘানার মান তাদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে ভালো, তবে সাম্প্রতিক আফ্রিকান নেশন্স কাপে অংশ নিতে না পারায় এখনও পুনরুত্থানের পথে রয়েছে। কার্লোস কুইরেজের কিছুটা দেরিতে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দলের জন্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক, দুই ধরনের ফলই বয়ে আনতে পারে। তবুও নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনায় তারা এখনও বাইরের সারির দাবিদার হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, পানামা গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নকআউট পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে চাইবে। তাদের প্রথম ম্যাচটি হবে ঘানার বিপক্ষে, যা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ইতিবাচক ফল দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে পারলে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যাবে।
সূচী :
১৭ জুন : ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া, ঘানা বনাম পানামা
২৩ জুন : ইংল্যান্ড বনাম ঘানা, পানামা বনাম ক্রোয়েশিয়া
২৭ জুন : পানামা বনাম ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া বনাম ঘানা
Leave a Reply