সিলেট বিয়ানীবাজারের কুশিয়ারা নদীর নতুন ভাঙনে বাড়ছে উদ্বেগ সড়ক,বসতঘর নিয়ে শঙ্কা চারদিকে যখন শীতের আগমনী বার্তা। এমন অসময়ে নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ। এই দফায় গ্রামীণ সড়ক এবং একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।
স্থানীয়রা বলছেন, অসময়ে নদীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ। আতঙ্কে রয়েছেন কুশিয়ারাপারের বাসিন্দারা। শীত শুরুর আগেই কুশিয়ারা নদীর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার তিন ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকার তীব্র নদী ভাঙন এখন সবার আলোচনায়। সর্বশেষ তথ্য বলছে,নতুন ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরিয়া ও নয়াদুবাগ,শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা,দিঘলবাঁক, কাকরদিয়া,তেরাদল,বড়-শালেশ্বর ও কোনা- শালেশ্বর এবং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার,গড়রবন্দ,আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর, গোবিন্দ্রশ্রীসহ বেশ কিছু গ্রাম। গত শনিবার হঠাৎ করে উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের গড়রবন্দ গ্রামের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। এর আগে নদীতে তলিয়ে যায় ওই এলাকার তীরবর্তী বেশ কিছু অংশ,গ্রামীণ সড়ক ও সড়কের পাশে থাকা দুটি দোকান। ভাঙন শঙ্কায় গড়রবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন, কয়েকটি বসতবাড়ি ও ফসলি জমিও নদীতে চলে গেছে। একই চিত্র নদী তীরবর্তী ভাঙনপ্রবণ অন্য এলাকাগুলোতেও। কিছু দিন আগে শেওলা ইউনিয়নের কোনা শালেশ্বর এলাকার ছয়টি পরিবার তীব্র ভাঙনের মুখে সর্বস্ব হারিয়েছে। দিনমজুর জমির উদ্দিন, ছমির উদ্দিন, আব্দুল আহাদ, কলিম উদ্দিন, ছফুল মিয়া ও আব্দুল কুদ্দুছ বসতঘর হারিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা বলেন, এবার গড়রবন্দে দোকান, রাস্তাসহ বেশ কিছু এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার, আঙ্গুরা, মোহাম্মদপুর ও গোবিন্দ্র শ্রী এলাকার ভাঙন রোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তফা মুন্না বলেন, শনিবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভেঙে পড়া গ্রামীণ সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিমুক্ত রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ বিষয়ে অবগত করে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। শেওলা ও কুড়ারবাজারের নতুন ভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য চাহিদা প্রেরণ করা হবে দ্রুত।
Leave a Reply