1. admin@dailybartaman.com : adminraju :
  2. mdboshir64@gmail.com : MD. Boshir : MD. Boshir
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবর:
নলছিটিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শনে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরিশাল চুয়াডাঙ্গায় ফসলের জমিতে পাওয়া পাকিস্তান আমলে ৭ ল্যান্ডমাইন, নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী দর্শনায় বোনের  সম্পত্তি দখলে ভাইদের ‘তৎপরতা’: দোকান ভেঙে লাখ টাকার মালামাল লুট, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ ‎হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গুলশানে পুলিশের মদদে বাড়ি দখলের অভিযোগ‎ গোদাগাড়ীতে আন-নাস্তা’ঈন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার ও হুইলচেয়ার বিতরণ ‘টাকা খাওয়ার’ কথা বলতেই পলাতক সাবেক এমপি বললেন, ‘তুই সামনে পড়িস’ জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরব না : প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে: উদ্ধার ২৩ জন, আহত ১ ‘প্রধানমন্ত্রী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলতে চান, দলীয় লোকও যেন বেনিফিট নিতে না পারে’
বিশেষ বুলেটিন :
Welcome To Our Website...

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বাস্তবায়নে ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারি

রিপোর্টার
  • সময়: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৫ সময়

বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে আরও কার্যকরভাবে এবং পূর্ণরূপে নিশ্চিত করতে ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ও শৃঙ্খলাবিধানের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে গতকাল অধ্যাদেশটি (অধ্যাদেশ নং ৭২, ২০২৫) প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে নির্বাহী বিভাগকে বিচার বিভাগ থেকে পৃথক রাখা রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মূলনীতি।

এই নীতির আলোকে এবং সংবিধানের ১০৯ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা এবং বিচার বিভাগের সার্বিক কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রয়োজন।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এই সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্ত ঠিক করতে আলাদা বিধান করাও প্রয়োজন।

এছাড়া আপিল বিভাগের ৭৯/১৯৯৯ নম্বর সিভিল আপিল মামলার রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন সম্পন্ন হওয়া এবং কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হওয়ার পর সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে অধ্যাদেশের ৭ নম্বর বিধানাবলি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর করবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইন বা বিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানই প্রাধান্য পাবে। সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় গঠন এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে- (১) সংবিধানের ২২, ১০৯ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় নামে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় থাকবে। (২) সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে থাকবে। সচিবালয়ের সচিব হবেন প্রশাসনিক প্রধান। (৩) প্রয়োজন হলে সচিবালয় সরকারী মন্ত্রণালয়ের মতোই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। (৪) সচিবালয়ে একজন সচিবসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। (৫) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব সরকারের সিনিয়র সচিব এর সমমর্যাদা ও সুবিধাদি ভোগ করবেন। (৬) সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সচিবের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন। (৭) প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনে প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করে আদেশ জারি করতে পারবেন।

সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যাবলি বিষয়ে এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, (১) অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেনো, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যাবলি হবে-(ক) দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করা এবং অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন। (খ) অধস্তন আদালতের প্রতিষ্ঠা বা বিলোপ, সংখ্যা, গঠন ও এখতিয়ার নির্ধারণ। (গ) অধস্তন (নিম্ন) আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ এবং তাদের কর্মের শর্ত নির্ধারণ। (ঘ) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদ সৃজন, বিলোপ, বিন্যাস, নিয়োগ, কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা, ছুটি, প্রশাসন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নির্ধারণ (ঙ) সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের পদ সৃজন, বিলোপ ও বিন্যাস। (চ) সচিবালয়, রেজিস্ট্রি ও ট্রাইব্যুনালের কাঠামো নির্ধারণ ও হালনাগাদ। (ছ) অধস্তন আদালত, সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রি এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হালনাগাদকরণ। (জ) সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত কমিটিকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া। (ঝ) বিচারিক কর্মে নিয়োজিত সদস্যদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। (ঞ) সার্ভিস সদস্যগণের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন; (ট) অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং সচিবালয় সংক্রান্ত বাজেট তৈরি (ঠ) সুপ্রীম কোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। (ড) প্রধান বিচারপতি, আদালত ও বিচারকদের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান। (ঢ) সার্ভিস সদস্যগণের এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের শিক্ষা, বৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও এতদসংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। (ণ) বিচারিক সেবার মানোন্নয়ন ও বিচার বিভাগের সংস্কারে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা, প্রকাশনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ। (ত) অন্যান্য দেশের আদালত, বিচার বিভাগ এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা ও চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়ন। (থ)প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিমালার অধীনে অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব পালন। (দ)অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রধান বিচারপতির আরোপিত দায়িত্ব পালন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের কাজ ঠিকভাবে চালাতে আইন ও বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবে।

সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যপদ্ধতি বিষয়ে বলা হয়েছে- (১) সচিবালয় সরাসরি সরকারের যে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। (২) কোনো ব্যক্তি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানও সচিবালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে। (৩) প্রধান বিচারপতি চাইলে আদেশের মাধ্যমে সচিবালয়ের কাজের ভাগ-বণ্টন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে পারবেন।

সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্ব পালন বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে- (১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হবে। (২) সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির পক্ষে পালন করবে। (৩) সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত কার্যাদির বিষয়ে সচিবালয়কে সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শের জন্য উপস্থাপন করতে হবে। উক্ত কমিটির সদস্যগণ আপীল বিভাগের বিচারক দ্বারা মনোনীত হবেন। সার্ভিস সদস্যদের পদায়ন বা বদলি সংক্রান্ত কাজ সংবিধানের ১৩৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্পন্ন হবে।

অধ্যাদেশে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি বিষয়ে বলা হয়েছে- (১) অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রি ও সচিবালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানসমূহ সংক্রান্ত উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প চূড়ান্ত নিরীক্ষা ও সুপারিশ করার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠিত হবে। কমিটিতে (ক) আপিল বিভাগের একজন বিচারক (প্রধান বিচারপতি মনোনীত) হবেন কমিটির সভাপতি; (খ) হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন বিচারক (প্রধান বিচারপতি মনোনীত); (গ) সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ; (ঘ) সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। (ঙ) সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ; (চ) রেজিস্ট্রার জেনারেল, সুপ্রীম কোর্ট; এবং (ছ) কমিটির সদস্য সচিব হবেন সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব।

কমিটি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে এর কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

কোনো প্রকল্পের ব্যয় যদি ৫০ কোটি টাকার মধ্যে থাকে, তবে প্রধান বিচারপতি নিজেই তা অনুমোদন করবেন। আর ব্যয় যদি ৫০ কোটি টাকার বেশি হয়, তবে তা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাঠানো হবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, প্রকল্প গ্রহণ, প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের সময় ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা, ২০২২’ অনুসরণ করা হবে। সরকার সময়ে সময়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আর্থিক সীমা বাড়াতে বা মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক বিচার প্রশাসন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করতে পারবেন।

এসব কমিটি আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গঠিত হবে। কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক থাকবেন। প্রতিটি কমিটির মেয়াদ ও দায়িত্বের পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় কমিশন বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, একটি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় কমিশন গঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি এর চেয়ারপার্সন হবেন। কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে থাকবেন- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপীল বিভাগের একজন বিচারক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল।
 
এই কমিশন দেশের বিচার প্রশাসনের উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ দিবে। কমিশন তার নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

বাজেট ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতি অর্থবছরের জন্য একটি বাজেট বিবৃতি প্রস্তুত করবে। অর্থবছর শুরুর অন্তত তিন মাস আগে এটি তৈরি করতে হবে।

এতে থাকবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অন্তর্ভুক্ত আদালত, প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের অনুমোদিত আয় ও ব্যয়। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্যও আলাদা আয় ও ব্যয়ের বিবৃতি তৈরি হবে।

বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, বিচার প্রশাসন পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় এবং সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, কমিশন, ইনস্টিটিউট, একাডেমি ইত্যাদির নিয়মিত ও উন্নয়ন ব্যয়। এছাড়া গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রধান বিচারপতি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের বাজেট বিবৃতিটিকে সরকারের আর্থিক বিবৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন। বাজেট প্রণয়নের সুবিধার জন্য সুপ্রীম কোর্ট ও সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় তাদের রাজস্ব, প্রাপ্তি ও সম্ভাব্য খরচের প্রাথমিক হিসাব সরকারের কাছে সময়মতো পাঠাবে।

সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা এবং সচিবালয়ের সব প্রশাসনিক ব্যয় এই তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় হবে। জাতীয় বাজেটে সুপ্রীম কোর্টের জন্য বরাদ্দ অর্থ যাবে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির অনুকূলে, আর সচিবালয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ যাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে—দুটো আলাদা খাতে।

এই অর্থ ব্যয় করতে সরকারের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে, সময়মতো সরকার যে ব্যয় সংক্রান্ত নিয়ম জারি করবে, তা এখানে প্রযোজ্য হবে। বাজেটের অর্থ পুনঃবিন্যাস বা পুনঃব্যবহারের ক্ষমতা থাকবে প্রধান বিচারপতির হাতে। সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সব খরচ অনুমোদনের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন প্রধান বিচারপতি।
কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্দিষ্ট বিধি অনুযায়ী নিয়োগ পাবেন।

বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্য থেকে সচিবালয়ে কর্মচারী পদায়ন করতে পারবেন।

আবার, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অধস্তন আদালতে বদলি বা পদায়ন করা যাবে, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের সচিবালয়ে বদলি বা পদায়ন করা যাবে। সবই বিধি অনুযায়ী হবে।

বিধি, প্রবিধি, আদেশ বা পরিপত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য নিয়মকানুন (বেতন, ভাতা, ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, গ্রাচুইটি, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা) প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তবে সার্ভিস সদস্যদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য নির্ধারিত আইন, বিধি ও আদেশ কার্যকর হবে।

শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বিষয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রণীত বিধি ও আদেশ অনুযায়ী সার্ভিস সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যারা আইন ও বিচার বিভাগ বা সরকারের অন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং আইন ও বিচার বিভাগের বিধি অনুযায়ী।

সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী কার্যকর হবে।

সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি, সচিবালয়, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও অধস্তন আদালতের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন বা পদ সৃষ্টি, বিলোপ ও বিন্যাসের জন্য একটি পদ সৃজন কমিটি গঠিত হবে।

কমিটির সভাপতি হবেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক।

সদস্য হিসেবে থাকবেন- প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক,হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন বিচারক, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। 

এই কমিটির সুপারিশই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সুপারিশ অনুযায়ী পদ সৃষ্টি বা বিলোপের আদেশ জারি করা হবে এবং কমিটি আদেশ জারির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের পদ সৃজনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা বিষয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।

বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন অনুযায়ী আদেশ, নির্দেশ বা পরিপত্র জারি করতে পারবেন, যাতে অধ্যাদেশের ধারা কার্যকর হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 www.dailybartaman.com  Design & Developed by: ITRaj
Theme Customization By NewsSun