1. admin@dailybartaman.com : adminraju :
  2. mdboshir64@gmail.com : MD. Boshir : MD. Boshir
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবর:
নলছিটিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শনে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরিশাল চুয়াডাঙ্গায় ফসলের জমিতে পাওয়া পাকিস্তান আমলে ৭ ল্যান্ডমাইন, নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী দর্শনায় বোনের  সম্পত্তি দখলে ভাইদের ‘তৎপরতা’: দোকান ভেঙে লাখ টাকার মালামাল লুট, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ ‎হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গুলশানে পুলিশের মদদে বাড়ি দখলের অভিযোগ‎ গোদাগাড়ীতে আন-নাস্তা’ঈন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার ও হুইলচেয়ার বিতরণ ‘টাকা খাওয়ার’ কথা বলতেই পলাতক সাবেক এমপি বললেন, ‘তুই সামনে পড়িস’ জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরব না : প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে: উদ্ধার ২৩ জন, আহত ১ ‘প্রধানমন্ত্রী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলতে চান, দলীয় লোকও যেন বেনিফিট নিতে না পারে’
বিশেষ বুলেটিন :
Welcome To Our Website...

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের কার্যকলাপ এখনও ফ্যাসিস্ট নিয়মে প্রমোশনের চেষ্টা এমডি মজিবর রহমানের আওয়ামী প্রীতি অব্যাহত আছে

রিপোর্টার
  • সময়: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০৪ সময়

স্টাফ রিপোর্টার
রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান নিজেকে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পিএস পরিচয় দিয়ে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। আসলে তিনি বটবাহিনীর লোক হিসেবে প্রমানিত।
৮৫ বছরের বৃদ্ধ এই ভদ্রলোক প্রশাসনে চাকুরী কালীন সম্ভবত ১৯৭৯ সালে সিএমএলএ দফতরে একটি উইং এ উপ-সচিব হিসেবে কিছুকাল চাকুরী করেছেন। সেটাকেই তিনি পিএস পরিচয় দিয়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। কিন্ত তিনি কে তার একটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো-২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর উপলক্ষ্যে জনতা ব্যাংকের হেড অফিসের একটি দোয়া মাহফিলে জাতীয়তাবাদী অফিসার কল্যান সমিতির সেক্রেটারী তার বক্তৃতায় জিয়াউর রহমানের মতো সৎ, যোগ্য, মেধাবী রাষ্ট্রনায়ক এদেশে আর জন্মাবে না মর্মে বলেছিলেন। সেখানে ফজলুর রহমান সাহেব তার বক্তৃতায় বলেন, ‘‘অফিসার সংগঠণের সেক্রেটারী সাহেব যেটা বললেন যে জিয়াউর রহমানের মতো লোক এদেশে আর জন্মাবে না- এটা ঠিক না।’’ এরকম আরও কিছু কথা বলে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন যাহা জাতীয়তাবাদের বিপরীত এবং বটবাহিনীর পক্ষের।
তিনি এমন জমিদারী ভাব নিয়ে ব্যাংকে ঢুকেন যে, কোনও কর্মকর্তা/কর্মচারী তাকে সালাম দিলে তিনি উহা খুব কস্টে নিয়ে থাকেন বা নেন না। কেউ তার সাথে কথা বলতে গেলে অনুমতি দেন না। উনার ভাবখানা এমন থাকে যে, তিনি জমিদার বা ব্যাংকের মালিক। কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তার প্রজা।
তিনি এবং ব্যাংকের বর্তমান এমডি মজিবর রহমান নিজেদেরকে ব্যাংকের মালিক হিসেবে বিবেচনা করে অনেক অনৈতিক কাজও করে চলেছেন। লোন পাওয়ার যোগ্য না অথচ তিনি এমন বেশ কিছু লোন দিতে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেছেন। সুদ মওকুফের যোগ্য না তবুও এমন লোন সমূহের সুদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে তিনি মওকুফ করিয়েছেন। ১২০০ টাকা মূল্যের বাটন ফোন নিয়ে জনতা ব্যাংকে তিনি ঢুকেছিলেন, এখন একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং একটি স্যামসাং এস২৫ আলট্রা সংগে রাখেন।
অনৈতিক কাজগুলো করার জন্য তার কয়েকজন দালাল রয়েছে। তাদের মধ্যে এডভোকেট ফরহাদ এবং বগুড়ার যাদু মিয়া অন্যতম। সারাদেশ থেকে দালালরা কাজ আনে আর ফজলুর রহমান সাহেব টাকার বিনিময়ে প্রভাব খাটিয়ে সেগুলো করে দেন।
তার আমলে কোনও অন্যায় বা দূর্নীতি হয়নি মর্মে অডিট ডিপার্টমেন্ট হতে একটি প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে তিনি সম্প্রতি একটি চিঠি লিখেছেন। ভবিষ্যতে চামড়া বাচানেরার জন্য এই সার্টিফিকেটটি তিনি রেখে দিবেন। তিনি যদি কোনও দূর্নীতি না করে থাকেন তবে হঠাৎ তার অডিট ডিপার্টমেন্টের প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হয়ে পড়লো কেন? তিনি কি চাকরী হারানোর ভয়ে আছেন? তিনি কি দুদক ফেস করার আতংকে আছেন? নির্বাচিত সরকার আসার পরও ৮৫ বছর বয়সে চাকরীটা ঠিক রাখার জন্য ইতোমধ্যেই তিনি বিএনপির উচ্চ পর্য্যায়ে ধর্না দেয়া শুরু করেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি একসময় স্কাউটের প্রধান ছিলেন। স্কাউটের একটি পোগ্রামে ম্যাডাম সালাম গ্রহন করছিলেন, ফজলুর রহমান সাহেব স্কাউট প্রধান হিসেবে মঞ্চে ম্যাডামের পাশে দাড়ানো ছিলেন। এই ছবিটি তিনি সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আপলোড করিয়ে নিজেকে বিএনপি প্রমানের অপচেষ্টা করছেন।
২০২৫ ভিত্তিক প্রমোশন বানিজ্যেও এমডি এবং দুএকজন ডিরেক্টরের সাথে তিনিও কোটি টাকা কামিয়েছেন বলে মতিঝিল পাড়ায় কথা চলমান আছে।
নির্বাচিত সরকার আসার পর তার বিষয়ে সঠিক এবং কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নীরিহ এবং বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবী রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংকে বিগত প্রায় ১৬ বছর সকল নিয়মনীতি ভঙ্গ করে বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে এবং ঘুষের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট আমলে কর্মকর্তাদের প্রমোশন, বদলী ইত্যাদি হয়েছে। ছাত্রলীগ করা অফিসারগন ‘‘স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ’’ এবং ‘‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’’ নামে কমিটি করে বিভিন্ন পদে থেকে এতদিন প্রমোশন, পোষ্টিং সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ সহযোগিতায় ঐসব কর্মকর্তারাই বর্তমানেও সুবিধা পাবার মতো করে প্রমোশন নীতিমালা তৈরী করে নিয়েছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ব ৪টি ব্যাংকের এমডি, ডিএমডি, জিএম(এডমিন) গন বার বার মিটিং করে অর্থ বিভাগের মাধ্যমে একটি পদোন্নতি নীতিমালা পাশ করিয়ে নিয়েছেন যাহাতে ফ্যাসিস্টগনই সুবিধা পাবেন। এই নীতিমালা পাশ না হওয়া পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ প্রমোশন কাজ শুরুই করেননি। উহা পাশ হবার পর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু করাতে সকল গ্রেডে প্রমোশন দেয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিলম্ব তারিখে (ইধপশ উধঃব) প্রমোশন দেয়ার পায়তারা চলছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সারাদেশের শাখা ব্যবস্থাপকগণের অধিকাংশই ‘‘স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ’’ এবং ‘‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’’ কমিটির নেতা। ক্ষমতাবলে তাহারা ম্যানেজারী বাগিয়ে নিয়েছেন। এখনও তাহারা বহাল আছেন। কিন্ত প্রমোশনের ক্ষেত্রে ম্যানেজারদের জন্য ০২ মার্ক রাখা হয়েছে। এই দুই মার্ক দ্বারা অন্তত এক হাজার যোগ্য অফিসারকে পেছনে ফেলে সে প্রমোশন নিয়ে নিতে পারে। বিগত বছরগুলোতে তাই হয়েছে। কেবলমাত্র ম্যানেজারগনকে এই মার্ক দেয়াটাই বৈষম্য। অথচ তাদের সমকক্ষ একই ব্যাচের অন্য যোগ্য অফিসারগন সকল যোগ্যতা থাকার পরও প্রমোশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আরও কিছু উপায় অবলম্বন করে ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদেরকে প্রমোশন দেয়া হতো যা বর্তমানেও বলবৎ রয়েছে:- যেমন-
কয়েকজন ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা মিলে ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণার’ স্থাপন পূর্বক সেই বাবদে ০১ মার্ক নিয়ে অনেকেই বিগত বছরগুলোতে প্রমোশন নিয়েছেন। আবার ব্যাংকের এমডি এবং পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রশংসাপত্র নিয়ে ০১ মার্ক অর্জন করার মাধ্যমেও অনেক ফ্যাসিস্ট অফিসার প্রমোশন নিয়েছেন। আবার ‘শুদ্ধাচার’ নামীয় বিষয়ের উপরও ০১ মার্কের ব্যবস্থা রেখে অনেক ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা প্রমোশন নিয়েছেন।
উপরের প্রক্রিয়াগুলোর সাথে তৎকালীন এমডি জনাব মরহুম আমিনুর রহমান এবং সাবেক এমডি আব্দুস সালাম আজাদ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকেছেন। তাদের আমলে (প্রায় ১৬ বছর) জনতা ব্যাংকে অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি, দূর্নীতি, ঘুষ ইত্যাদি সকল সীমা অতিক্রম করেছে। একজন মৃত্যুবরন করেছেন অপরজন দুদকের মামলা খেয়ে পলাতক রয়েছেন। আব্দুস সালাম আজাদের মতো বাজে এমডি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি। জনতা ব্যাংককে ধ্বসিয়ে দেয়ার মূল কারিগর তিনি।
৩১.১২.২০২৪ সাল ভিত্তিক প্রমোশন এজিএম হতে ডিজিএম পদে প্রমোশন দেয়া সম্ভব হলেও পরের পদগুলোতে দিতে পারেননি। ইতোমধ্যে ২০২৫ সার শেষ হয়েছে। এসপিও হতে এজিএম পদে পদোন্নতির জন্য ২০ জনের একটি প্যানেল তৈরী করা হয়েছে যাহাতে ব্যাপক ঘুষ বানিজ্য এবং সৃষ্ট নীতিমালা পরিপালন করা হয়েছে যাহাতে ২০ জনের প্রায় ১৫ জনই ফ্যাসিস্ট। এই তালিকার প্রায় সকলেই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর, এমডি, ডিএমডিদের চয়েজের লোক। শোনা যায় যে, কোনও কোনও ক্যান্ডিডেট ২৫ লাখ আবার কেউ ৩০ লাখ দিয়ে প্রমোশন নেয়ার চুক্তি করেছেন। প্রমোশন তালিকার ০৩ নম্বর সিরিয়ালের জনাব রাকিবুল ইসলাম ২৫ লক্ষ টাকা একজন ডিরেক্টরকে দিয়েছেন। সেই ডিরেক্টর অফিসারদের সামনে প্রকাশ্যে এটাও বলেছেন, ‘‘রাকিবকে প্রমোশন না দিতে পারলে বাসায় মুখ দেখাতে পারবো না।’’ পর্ষদের চেয়ারম্যান সাহেবের দুজন এই তালিকায় রয়েছে। এজিএম হতে ডিজিএম পদেও তিনি দুজনকে বলপূর্বক প্রমোশন দিয়েছেন। ব্যাংকের এমডি মজিবর রহমান, ডিএমডি আশরাফুল আলম গং তাদের চুক্তিবদ্ধ লোকদের এই তালিকার অন্তর্ভূক্ত করেছেন। প্রমোশন নিয়ে উচ্চ পর্য্যায়ে লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে কথা ছড়িয়েছে।
এসপিও হতে এজিএম পদে প্রমোশনের এই ২০ জনের তালিকা প্রকাশের পরে বঞ্চিত যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে উহা রহিত করা হয়েছিল। কিছুদিন চুপ থাকার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারীর শেষের দিকে ব্যাক ডেটে উক্ত প্রমোশন দিয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি, ডিএমডি এবং ডিরেক্টরগন হালাল করে নিয়েছেন। প্রমোশন বঞ্চিত যোগ্য এবং নীরিহ কর্মকর্তাগনের মাঝে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে। নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের চাওয়া হলো এসব নির্বাহীদের অপসারকন করে আইনের আওতায় আনা হোক।
৫ আগষ্ট পরবর্তী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের প্রায় সকলেই ‘‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’’ এর নেতা বা উপদেষ্টা। এ সংক্রান্ত কমিটির কাগজ এবং বহু ছবি সংগৃহীত রয়েছে। আবার ৫ আগষ্ট পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের প্রায় সকলেই সুবিধাবাদী এবং রং বদলকারী। তাহারা কেউ শুরুতে জামাত-শিবির পরিচয় দিতো, এখন বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। কেউ আবার ম্যাডাম জিয়ার সাথে পুরনো ছবি পোষ্ট করছে। আসলে এরা সবাই সুবিধাবাদী।
জনতা ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) জনাব মজিবর রহমান এর স্বৈরাচারী কার্যাদি এবং আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধাদি প্রদানের কাজ এখনও বহাল তবিয়তে চলমান রয়েছে। এই সরকার যতদিন আছে তার চাকরী ততদিন আছে ধারনা থেকেই তিনি বর্তমানে চরম স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছেন। তিনি রূপালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ৪ নম্বর উপদেষ্টা।
রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ব্যাংকের এমডি জনাব মজিবর রহমানের চাকুরী জীবন শুরু করেন রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে। তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ভাই জনাব সাজ্জাদ হোসেন সাবেক সিনিয়র সচিব এবং শেখ হাসিনার পিএস ছিলেন। মূলত সাজ্জাদ সাহেবই তাকে প্রথম ডিউতেই ডিজিএম, জিএম এবং ডিএমডি বানিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর পিএস হিসেবে সাজ্জাদ সাহেবের হুকুমের আগেই সব কাজ হয়ে যেত। মজিবর সাহেব সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি হবার কিছুদিন পরই তাকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি করে দেন এই সাজ্জাদ সাহেবই। ১৯৯৮ সালে চাকুরীতে যোগদান করা প্রথম ব্যক্তি যিনি কোনও ব্যাংকের এমডি হয়েছেন সাজ্জাদ সাহেবের পদলেহন করে।
৫ আগষ্ট পরবর্তী ডঃ মোঃ ইউনুছ সরকার আসার পর পলাতক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদ এস আলম গ্রুপের সাথে মজিবর সাহেবের লিংক করিয়ে দেন। সেই সুবাদে মজিবর সাহেব এক ছুতায় সিঙ্গাপুর যান এবং সেখানে এস আলম গ্রুপের মালিকের সাথে বৈঠক করেন। জনতা ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নিবেন না শর্তে প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ করে মজিবরকে জনতা ব্যাংকের এমডি পদ নিশ্চিত করে দেন মর্মে কথা প্রচলিত আছে। মজিবর সাহেব সিঙ্গাপুর থাকা অবস্থায়ই জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে তার প্রজ্ঞাপন জারী হয়। প্রায় ১৫ দিন পর তিনি জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন। মজিবর সাহেবও শর্ত মেনে চলছেন। এস আলম গ্রুপের খেলাপী ঋণের ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপই নেননি।
এমডি মজিবর সাহেব রূপালী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু পরিষদের শীর্ষ উপদেষ্টা পদে এখনও রয়েছেন। তিনি কট্টর আওয়ামী পরিবারের সদস্য। নিজেকে সৎ ব্যক্তি পরিচয় দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে থাকেন। পূর্বের ফ্যাসিস্ট এমডিদের মতো অতটা প্রকাশ্যে লুটপাটে জড়িত না হলেও আওয়ামীলীগের খেলাপী বড় বড় ঋণগ্রহীতাদের ঋনের সুদ মওকুফ অর্থের বিনিময়ে সমানতালে করে দিচ্ছেন। গত দেড় বছরে ব্যাংকের বড় বড় ঋণের ইনস্যুরেন্সের কমিশন বাবদ প্রায় ৩০ কোটি টাকা কেবল এই খাত হতেই তিনি কামাই করেছেন। মতিঝিল কর্পোরেট শাখার এ রকম একটি ঘটনা পত্রিকায় চলে আসায় কর্পোরেট শাখার ডিজিএম কে তিনি তাৎক্ষণিক বদলী করে দেন। সেখানে একটি ঋণের ইনস্যুরেন্স গত বছর যে প্রতিষ্ঠানটি করেছিল তাদেরকে না দিয়ে মজিবর সাহেব তার আত্বীয়কে কাজটি দিয়েছিলেন। ২.৫০ কোটি টাকার পেঅর্ডার হয়েছিল। সেখান থেকে ১.২৫ কোটি টাকার কমিশন মজিবর সাহেব নিয়েছেন বলে পত্রিকায় এসেছে। পূর্বের প্রতিষ্ঠানকে কাজটি না দেয়ায় তাহা পত্রিকায় চলে এসেছে বলে ধারনা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় কর্পোরেট শাখার ডিজিএম কে তিনি বদলী করে দেন। ঠিক এভাবেই সারা দেশের বড় বড় ঋণগ্রহীতাদের ইনস্যুরেন্সের টাকা তিনি জোর করেই নিয়ে নেন।
মজিবর রহমানের রক্তের প্রতিটি কণিকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টের প্রীতিতে ভরা। তার একটি উদাহরন তুলে ধরা হলো-
সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর জন্য সমন্বিত পদোন্নতির নীতিমালা অনুমোদন হয়েছে যাহা তৈরীতে জনতা এবং সোনালী ব্যাংকের এমডিগন মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এখানে বলে রাখা দরকার যে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ছাত্রলীগ করা ব্যাংকের অফিসারদের পদোন্নতি দেয়ার লক্ষ্যে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা হতো। যেমন-
০১. ম্যানেজারদের জন্য ২ মার্ক রাখা হতো। এই ২ মার্কের দ্বারা একজন প্রমোশন প্রার্থী অন্তত এক হাজার জন প্রার্থীকে পিছনে ফেলতে পারে। (জনতা ব্যাংকের প্রায় ৯০ শতাংশ শাখার ম্যানেজারগন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের পদধারী নেতা। জোর করেই তারা ম্যানেজারী নিয়েছে এবং এখনও ম্যানেজার হিসেবে বহাল রয়েছে। পূর্বে ম্যানেজারী নম্বরটি সমগ্র চাকুরীজিবনের মধ্যে হিসাব করা হতো, কিন্ত ফ্যাসিস্ট অফিসারদের প্রমোশন দেয়ার লক্ষ্যে এটাকে ফিডার পদের জন্য বরাদ্দ হিসাবে নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। শুধু ম্যানেজারগন প্রমোশন পেলে একই পদের অন্য শত শত অফিসারগন প্রমোশন বঞ্চিত হবে)।
০২. প্রতিষ্ঠানের কোনও এক স্থানে শেখ মজিবর রহমান সাহেবের প্রতিকৃতি স্থাপন করে উহাকে ‘‘মুজিব কর্ণার’’ নাম দিয়ে কিছু আওয়ামী কর্মকর্তা ০১ নম্বর করে বরাদ্দ নিয়ে এতদিন প্রমোশন নিয়েছে।
০৩. শুদ্ধাচার নামীয় শব্দটিকে অপব্যবহার করে ০১ নম্বর নিয়ে অনেক আওয়ামীপন্থী অফিসারগন প্রমোশন নিয়েছে। মজিবর রহমান গং দের তৈরী করা বর্তমান পদোন্নতি নীতিমালায় সুবিধাভোগীরাই ভবিষ্যতেও প্রমোশন পেয়ে যাবে, বঞ্চিতরা বঞ্চিতই থেকে যাবে। সোনালী, জনতা, অগ্রনী এবং রূপালী ব্যাংকের এমডি, ডিএমডি(এডমিন), জিএম(এডমিন) বার বার মিনিষ্ট্রিতে বৈঠক করে ওখানে পদায়িত ফ্যাসিস্ট সচিবের সহায়তায় এই নীতিমালা তৈরী করে নিয়েছেন। তবে এখানে জনতা ব্যাংকের এমডির মূখ্য ভূমিকা ছিল।
এই এমডিদের চেয়ার যেন অন্যরা দখল করতে না পারে সেজন্য সম্প্রতি উদ্ভট নিয়মাবলী সংযোজন করে এমডি/ডিএমডি পদায়ন নীতিমালাও তৈরী করে নিয়েছেন। একজন ডিএমডি ০৩ বছর ডিএমডি পদে চাকুরীর অভিজ্ঞতা না থাকলে এমডি হতে পারবেন না। কি চমৎকার!! অথচ একদিন ডিএমডি হিসেবে চাকুরী করলেই পূর্বের নিয়মে এমডি হওয়া যেত। মজিবর সাহেবদের চেয়ার যেন কেউ দখল না করতে পারে সেজন্যেই এই ব্যবস্থা।

এমডি মজিবর সাহেবের বাড়ী ময়মনসিংহে, সোনালীর এমডি সাহেবের বাড়ী টাংগাইলে (বৃহত্তর ময়মনসিংহে), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বাড়ী টাংগাইলে, ব্যাংকিং সচিব মহোদয়া বিখ্যাত আওয়ামী নেতার ভাগ্নী। এসবের সমন্বয়েই উপরের কাজগুলো করা তাদের জন্য সহজ হয়েছে।
জনতা ব্যাংকের চাকুরী চলে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সাহেব মজিবর রহমান কে ডেপুটি গভর্নর করে নিয়ে নিবেন- এমন কথা তিনি এখন প্রচার করছেন।
বর্তমান এমডি জনাব মজিবর রহমান এর এহেন কার্যকলাপে গত ১৭ বছরে প্রমোশন সহ অন্যান্য সুবিধা বঞ্চিত নীরিহ কর্মকর্তাগণের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনও সময় অনাকাংখিত ঘটনাও ঘটে যেতে পারে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 www.dailybartaman.com  Design & Developed by: ITRaj
Theme Customization By NewsSun