রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গিয়েছিলেন ভুক্তভোগীর বাড়ি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা। মামলার মাত্র ১৯ দিনে হতে চলেছে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ ঘটনার রায়।
শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় শিশুটির বাসার সামনে সরেজমিনে দেখা যায়, গণমাধ্যমের সামনে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বাড়িতে নেই শিশুটির পরিবারের কেউ। তবু এলাকাবাসীর ভিড় সেই বাড়ির সামনেই। তাদের সবার দাবি একটাই- ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি
স্থানীয় বাসিন্দা নাসিমা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে দ্রুত বিচার চাই। এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা সোহেলের ফাঁসি চাই, ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি চাই না।’
শফিকুল ইসলাম নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। শুধু এ হত্যাকাণ্ড নয়, সব হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
নৃশংসতার শিকার শিশুটির বাবার বন্ধু রোমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। শুধু এ ঘটনায় নয়, দেশে সংঘটিত সব ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
অভিযুক্তকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা অপরাধীকে সহায়তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা লিজা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা স্বস্তি পাবো না। দ্রুত বিচার ও শাস্তির মধ্য দিয়েই এলাকাবাসী ন্যায়বিচার দেখতে চায়।’
আলোচিত এ ঘটনার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, ফরেনসিক আলামত, ডিএনএ রিপোর্ট ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তারা উভয় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে
রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্য আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠিত চার্জ প্রমাণের জন্য সাক্ষীদের মাধ্যমে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য, ডিএনএ রিপোর্ট, আলামত ও সাক্ষীদের বক্তব্য তুলে ধরে দাবি করেন, প্রধান আসামি সোহেল রানা পরিকল্পিতভাবে এ ধর্ষণ ও হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন। এ কাজে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সাক্ষ্য-প্রমাণে স্পষ্ট হয়েছে যে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের সহায়তায় ভিকটিমকে ধর্ষণ, হত্যা এবং পরে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে গুম করার চেষ্টা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ আদালতে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা ছুরিটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় সোহেল রানা মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রধান আসামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
Leave a Reply