1. admin@dailybartaman.com : adminraju :
  2. mdboshir64@gmail.com : MD. Boshir : MD. Boshir
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর:
ঝড় হোক আর বৃষ্টি থেমে নেই আমাদের কাজ গাজীপুরে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা রউফের বিরুদ্ধে গভীর রাতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ যশোরে সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়ক উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত দর্শনা জয়নগরের আ.লীগের দোসর হুন্ডি ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ পত্রিকার সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক ভর্তি ট্রাকসহ ২ জন আটক  ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৮ জুন রংপুরে হত্যা মামলায় আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সম্ভাবনা: তেলের দাম ৮০ ডলারের নিচে  আইসিটি বিভাগের আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা  পিআইবির আয়োজনে চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ শুরু 
বিশেষ বুলেটিন :
Welcome To Our Website...

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান

রিপোর্টার
  • সময়: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪০ সময়

‎নিজস্ব প্রতিবেদক

গৃহবধূ থেকে ধরেছিলেন দলের হাল। ইতিহাসের বাঁক বদলে তিনবার পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। এরপর মামলার রায়ে সাজা ভোগ। রোগশোকে জর্জরিত হয়ে শেষ বয়সে ছিলেন জেলের বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার অনুনয়-বিনয়ে সাড়া দেয়নি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। চব্বিশের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর কারামুক্তি হলেও রোগমুক্তি ঘটেনি খালেদা জিয়ার। নানাবিধ রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতেই নিভে গেল তাঁর প্রাণপ্রদীপ।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ২৩ নভেম্বর থেকে শেষবারের মতো এই হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। শেষ দফায় হাসপাতালে ভর্তির পর দলের পক্ষ থেকে তাঁর অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’ বলা হয়েছে।

ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, সংক্ষেপে বিএনপি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন সেই সময়কার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে খুন হন জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি গৃহবধূ খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়ে রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত হওয়ার পর ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪৪টি আসনে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে দলটি। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়); তথ্য মন্ত্রণালয়; মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে বিএনপি। একতরফা ওই নির্বাচনে ২৭৮টি আসনে জিতে ১৯ মার্চ সরকার গঠন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারেন তিনি। সেই সরকারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ নিজের হাতে রেখেছিলেন খালেদা জিয়া।

এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ২১৫টি আসনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। ওই সরকারে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ; সংস্থাপন মন্ত্রণালয়; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ; পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

খালেদা জিয়া দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর তিনি প্রথম সরকার গঠন করেন। পরে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেন এবং আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুনভাবে রূপ দিয়েছেন, বিশেষ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়।

স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে তিনি দ্রুত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নেত্রীতে পরিণত হন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ কারাবাস, স্বাস্থ্য সংকট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া একাধিকবার কারাবন্দী ছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণে সরকার তাঁকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়। মুক্তির পর থেকেই তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং রাজনৈতিক উত্তাপও সৃষ্টি হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 www.dailybartaman.com  Design & Developed by: ITRaj
Theme Customization By NewsSun